পেলে নাকি ম্যারাডোনা? সর্বকালের সেরা কে?Pele or Maradona? Who is the best of all time?


পেলে নাকি ম্যারাডোনা? সর্বকালের সেরা কে?Pele or Maradona? Who is the best of all time? Pele na ki maradona sobokaler sera player

পেলে নাকি ম্যারাডোনা? সর্বকালের সেরা কে?Pele or Maradona? Who is the best of all time? Pele na ki maradona sobokaler sera player


পেলে কে বলা হয় কিং অফ  ফুটবলার ম্যারাডোনা কে তার ভক্তরা ডাকে ফুটবল গড নিজ নিজ সময়ে পেলে-ম্যারাডোনার দুজনেই ছিলেন সেরা ।

সর্বকালের সেরা কে? সেই প্রশ্ন এলেই মেতে ওঠেন দুজন সঙ্গে পুরো বিশ্ব পেলে কিছু বললেই কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেখান ম্যারাডোনা ।
ম্যারাডোনার জবাবে গা জালানো কথা বলেন পেলে। বয়স ১৮  হবার আগেই বিশ্বকাপে অভিষেক হয় পেলে বাকিটা ইতিহাস ।  পেলে হয়ে যান ৫৮ কাপের কোয়ার্টার সেমিফাইনাল জয়ের নায়ক।  
সেমিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে করেন হ্যাটট্রিক আর ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে দুই গোল।  
৬২ তে তৃতীয় ম্যাচে চোট পান পেলে ।  কিন্তু বিশ্বকাপ ধরে রাখে ব্রাজিল । ৬৬ তে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের জঘন্য ফাউলের শিকার হয়ে বেশি কিছু করতে পারেননি ।
আবার ১৯৭০  অসাধারণ পেলেকে পায় ছেলেছাওরা সেবার নিজের চার গোল করেন অবদান রাখেন ব্রাজিলের বেশিরভাগ বল।  

পেলের জন্মের ২০ বছর পর ১৯৬০  সালে পৃথিবীতে আসেন দিএগো আর্মন্দ মারাদনা ফ্রানকো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ডাক ১৬ বছর বয়সে ।
কিন্তু ঘরের মাঠে ৭৮  বিশ্বকাপের ১৭  বছর বয়সে ম্যারাডোনাকে দোলেনা রেখে সমালোচিত হন  ৮২ বিশ্বকাপে কে নামের প্রতি তেমন সুবিধা করতে পারেননি।  মেক্সিকো বিশ্বকাপ দেখে অন্য এক ম্যারাডোনাকে ।
একক নৈপুণ্যে মাঝারি মানের দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন অধিনায়ক ম্যারাডোনা রূপকথার মতো এক বিশ্বকাপ কাটান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সেবার আর্জেন্টিনা দলের করা ১৪ দলের দশটি দিয়েছিল প্লেমেকার ম্যারাডোনার অবদান । নিজে করেছেন পাঁচটি সতীর্থদের বিয়ে করিয়েছেন আরও পাঁচ গোল আসরের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার ম্যারাডোনা।  
কটার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার করা দুটি গোল হয়ে আছে চিরকালীন আলোচনার উৎস।  হ্যান্ড অফ গড' গোলের পর নিজের অর্থ থেকে রাইটিং ধরে চিতার গতিতে ইংলিশ খেলোয়ারকে কাটিয়ে এগারটি কাছে দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন ফুটবল ঈশ্বর ।
পেয়েছে শতাব্দীর সেরা গোলের স্বীকৃতি । পরেও দলকে ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন দিএগো ।


জাতীয় দলের অর্জনের দিকে তাকালে ম্যারাডোনার চেয়ে অবশ্য পেলেন পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয় ।  চারটি বিশ্বকাপের ১৪  ম্যাচ খেলে ১২ টি গোল করেছেন পেলে তিনি হয়ে আছেন তিনটে বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র ফুটবলার ।
সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপ খেলার গোলের হ্যাটট্রিক করা ফাইনালে গোল করা এবং বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড পেলেট দখলে । ১৩৬৩  পেশাদার ম্যাচে তিনি গোল করেছেন ১২৮১  টি বেলের হ্যাটট্রিক ৯২  টি । । ব্রাজিলের জার্সিতে ৯২  ম্যাচে করেছেন ৭৭ গোল ।


ম্যারাডোনা বেশিরভাগ সময়ই জাতীয় দলে খেলেছেন মূলত প্লেমেকার এর ভূমিকায় । আর্জেন্টিনা জার্সিতে ৯১  ম্যাচ খেলে ৩৪  টি গোল করেছেন ম্যারাডোনা ।  বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন ২১  টি পোস্ট করেছেন আটটি করে দিন বিশ্বকাপের অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন ষোলটি ম্যাচে যে রেকর্ড আর কারো নেই
ম্যারাডোনাকে আটকানোর উপায় ছিল একটাই তাকে থামিয়ে দেয়া ।  ৮২ বিশ্বকাপে ইতালির খেলোয়াড়রা তাকে ফাউল করেন ২৩ বার আর  ৯০বিশ্বকাপে মোট ৫০  ফাউলের শিকার হয়েছেন ফুটবল ঈশ্বর ।এক মেজ নির্দিষ্ট কোন আসরে কোন খেলোয়ার কে ফাউল করার রেকর্ড ।

এর উপরে ক্লাব ফুটবল থেকে বাঁচাতে ৬১  সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে পেলেকে জাতীয় সম্পত্তি ঘোষণা করে ব্রাজিল সরকার । ।যে কারণে নিজ দেশের ক্লাব সান্তোস এই কাটিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময়  ।১৭ বছর ব্রাজিলের লিকে এবং সান্তোসে কাটিয়ে দেয়া পেলেকে নিয়ে তার সমালোচকরা কটাক্ষ করে থাকেন কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না ষাটের দশকে বিশ্বের সেরা লিগগুলোর একটি ছিল ব্রাজিলিয়ান লিগ ।
দিকে খেলতেন লাতিন আমেরিকার অসাধারণ প্রতিভাবান সব খেলোয়াড়রা ৬তি  লিগ শিরোপাও দুটি সদর দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের জিতিয়েছেন পেলে ।

অন্যদিকে ম্যারাডোনা যে একাই একশো সেটি দেখিয়েছেন ক্লাব ক্যারিয়ারেও । ফেভারিটের তালিকা না থাকা আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তো করিয়েছে লিগ ফুটবলে ম্যারাডোনার ইতালিয়ান লিগের শিরোপা জিতেছেন মাঝারি মানের দল নাপোলিকে।  একজনের এমন ক্ষমতা এর আগে দেখেনি ফুটবল বিশ্ব
ম্যারাডোনার কীর্তির পরই শুরু হয় সর্বকালের সেরা কে সেই বিতর্ক ।  পেলে কি কি ছাড়িয়ে গেছেন ম্যারাডোনা  ?

মাথা ব্যবহার করে ফুটবল নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করার ক্ষমতা ছিল পেলের খেলোয়াড়ই দক্ষতা আর চিন্তায় ফেলেছিলেন যোজন-যোজন এগিয়ে । বর্তমানে আধুনিক ফুটবলাররা মাঠে যেসব কারো কাছে দেখান সেসব ষাটের দশকে করে দেখিয়েছেন ব্রাজিলিয়ানদের প্রিয় কালো মানিক ।  
পেলেমারা দনা বিতর্ক থামাতে ২০০০ সালে ইন্টারনেট ভোটাভুটির আয়োজন করে ফিফার । ভোট দেন উন্নত বিশ্বের ইন্টারনেট সুবিধাভোগী মানুষেরা ওই জরিপে বিশাল ব্যবধানে পেলেকে পেছনে ফেললেন ম্যারাডোনা । তবে সেই ইন্টারনেট ঘুরাঘুরি ছাড়াও আরেকটি ভোট হয় বর্তমানে যেভাবে বর্ষসেরা নির্ধারণ করা হয় সেভাবে ২০০০ সালের শতাব্দীর সেরা ফুটবলার বেছে নিতে সাংবাদিকদের নিয়েছিল ফিফার  । ম্যারাডোনাকে বড় ব্যবধানের কাছে না পেলে
যে কারণে ম্যারাডোনার সঙ্গে পেলে কেউ যৌথভাবে প্লেয়ার অফ দ্যা সেঞ্চুরি ঘোষণা করে ফিফার । ফলে সর্বকালের সেরা ফুটবলার প্রসঙ্গটি এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে অমীমাংসিত ।

আপনাদের কাছে মনে হয় কে সেরা পেলে নাকি  ম্যারাডোনার 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url